প্রধানমন্ত্রীর নোবেল ঠেকাতে আবরার হত্যাকাণ্ড হতে পারে: মেয়র নাছির

ডেস্ক রিপোর্ট
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:15 AM, 13 October 2019

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল বঞ্চিত করতে আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শনিবার বিকালে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির বলেন, অবশ্যই এটা খুব দুঃখজনক যে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এটা যারা করেছে তাদের সাথে কি দলের কোনো নির্দেশনা আছে? কোনো নির্দেশনা নেই। এটা তারা অতি উৎসাহী হয়ে করেছে।

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে বিশ্বে নজির স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের খুঁজে বের করতে হবে তাদের দিয়ে কেউ এ কাজটা (আবরার হত্যাকাণ্ড) করিয়েছে কি না। কারণ নোবেল, শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নামটাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় ছিল। যে দিন নোবেল কমিটি বসেছেন নোবেল প্রাইজের জন্য, সেদিনই কিন্তু এ কাজটি হয়েছে। এখানে দুরভিসন্ধি থাকতে পারে, ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যাতে নোবেল প্রাইজটা না পায়।

মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপ, কানাডা সেখানেও কিন্তু মার্ডার হচ্ছে। আমাদের দেশের সাথে যদি পার্সেন্টেজ হিসাব করেন ওই দেশগুলোতে আরও বেশি হচ্ছে। এগুলো প্রমাণিত সত্য, মুখের কথা না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি। সেখানে অস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে ছাত্র-ছাত্রীদের গুলি করে হত্যা করে, অহরহ ঘটছে। সেখানে তাদের চিহ্নিত করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হয়। আমাদের এখানে অপরাধীরা এক সময় পার পেয়ে যেত। তাই মানুষের মধ্যে একটা শঙ্কা তৈরি হত।

আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার নিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, এখন কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘটনা হওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। যাকেই পাওয়া গেছে তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর কি করতে পারে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। যেনতেনভাবে তো দেওয়া যাবে না। তখন আবার বলবে হালকা করে চার্জশিট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- দ্রুততম সময়ে বিচার হবে। তারপরও এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।

মেয়র নাছির বলেন, কারা করছে? ওই একই গোষ্ঠী। কোটা আন্দোলন কারা করেছে? শিবির-ছাত্রদল সম্পৃক্ত ছিল। এখানে এটাতেও তাই হচ্ছে। ওরা বসে নেই। একের পর এক চেষ্টা করছে। সরাসরি আমাদের ভেতরে ঢুকে চেষ্টা করছে। ভোল পাল্টে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা যায় এবং তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা যায়।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, যানজট ও পানি সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মেয়র আ জ ম নাছির।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সময় লাগছে। তাই কিছুদিন উন্নয়নের প্রসববেদনা সহ্য করতে হবে। নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য নগরের জন্য সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হোসেন খান, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নিউমুরিং অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :