ধর্মপাশায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১।

সোহান আহম্মেদঃ ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ)
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:08 PM, 21 November 2020

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক কিশোরী (১৬)ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার(২০নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের সামনের সড়ক থেকে সনদ আদিত্য (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের গোপী নগর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত হরিচরণ আদিত্যের ছেলে। চলতি বছরের ২০অক্টোবর বেলা অনুমান একটার দিকে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও ওই কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ওই কিশোরী(১৬)কে তিন চার মাস ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখানোসহ নানা ভাবে ফুসলিয়ে আসছিলেন জয়শ্রী ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামের বাসিন্দা সনদ আদিত্য (৩০)।চলতি বছরের ২০ অক্টোবর দুপুরে ওই কিশোরী তার এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অবস্থান করছিল। ওই বাড়ির লোকজন ওইদিন সন্ধ্যার আগেই নিজ বাড়িতে ফিরে আসার কথা বলে ওই কিশোরীকে তাদের বসত ঘরে একাকী রেখে তারা অন্যত্র বেড়াতে চলে যান। এই সুযোগে ওই ইউনিয়নের গোপীনগর গ্রামের বাসিন্দা সনদ আদিত্য ওইদিন বেলা অনুমান পৌনে একটার দিকে বাড়িতে যান। ওই কিশোরীকে তিনি বসত ঘরের ভেতরে দেখতে পেয়ে সুযোগ বুঝে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখানোসহ নানাভাবে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে অনুমান বেলা একটার দিকে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে কিশোরীর কাকীর কাছ থেকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যাওয়ার তিনদিন পর কিশোরীর বাবা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে তিনি এ নিয়ে গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনো সুবিচার পাননি। এ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (২০নভেম্বর) বিকেলে ওই কিশোরীর বাবা থানায় এসে সনদ আদিত্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় এটি মামলা করেন। মামলার পর পরই অভিযান চালিয়ে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সনদ আদিত্যকে গ্রেপ্তার করে ধর্মপাশা থানা পুলিশ।

কিশোরীর বাবা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। ইজ্জত সম্মানই আমরার বড় সম্পদ। যে আমার মাইয়াডার ইজ্জত সম্মান নষ্ট করছে হের আমি ফাঁসি চাই।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলার আসামি সনদ আদিত্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার হওয়া ওই আসামিকে আজ শনিবার (২১নভেম্বর)সকালে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে ।ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে সুনামগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হযেছে।মামলার তদন্ত কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :