ধর্মপাশার মধ্যনগরে অনৈতিক ভাবে জলমহাল বিক্রির অভিযোগ।

সোহান আহম্মেদঃ ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ)
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:50 PM, 20 November 2020

সুনামগঞ্জ জেলা ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী জনকল্যাণ মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সামছুন নূরের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের কাছে এই জলমহালটি বিক্রি করে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য আব্দুল রেজ্জাক ও মো. সুরুজ আলী এই দুজন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ শুক্রবার (২০নভেম্বর) বিকেলে ইমেইলের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার( ইউএনওর) কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিল লুঙ্গা তুঙ্গা জলমহালটির আয়তন ২০ একরের উর্ধ্বে। এটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। ছয়বছর মেয়াদে ১৪২৫ বঙ্গাব্দথেকে ১৪৩০বঙ্গাব্দ পর্যন্ত এই জলমহালটি বাৎসরিক ১৮ লাখ ১১ হাজার ৬১৩ টাকা ইজারামুল্য ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ সাপেক্ষে এটি রংচী জন কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ইজারা পায়।ওই সমিতির সভাপতি সামছুন নূর সমিতির সকল সদস্যদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে তিনি প্রখম বছরের ইজারামুল্য ও অন্যান্য খরচাদি পরিশোধ করেন। কিন্তু সমিতির সভাপতি ওই সমিতির বেশিরভাগ সদস্যকে ম্যানেজ করে অনৈতিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা আর্থিক সুবিধা নিয়ে এই জলমহালটি সমিতির সভাপতির বোন জামাই একই ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদূর রহমানের কাছে ছয় বছরের জন্য জলমহালটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় সমিতির কোনো সদস্যই জলমহালটির ভোগ দখলে নেই। জলমহালটি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ও তাঁর লোকজনদেরকে নিয়ে এটি ভোগ দখলে রয়েছেন।সরোজমিনে তদন্ত করলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

অভিযোগকারী রংচী জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য ও রংচী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল রেজ্জাক বলেন, আমাদের রংচী জনকল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সামছুন নূর ও তাঁর ছোট বোন জামাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান এলাকায় খুবই প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক। সমিতির সভাপতির কাছে দুই বছর আগে জলমহালটির খাজনা ও অন্যান্য খরছাদি মিডানির লাইগ্যা আমি ও সুরুজ আলী এই দুইজন মিইল্যা ধার দেনা কইর্যা টেহা আইন্না প্রত্যেকে দেড়লাখ কইর্যাস মোট তিন লাখ টেহা হেইনের (সভাপতির) কাছে দিছি। সমিতির লাভ লুকসানের কুনু হিসাপাতি সভাপতি দিতা চাইতাছে না। হিসাব চাইলে সভাপতি আমরারে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিয়ে আসছে। আমরার সমিতির কুনু সদস্যই ওই বিলে নাই। ছয় বছরের লাইগ্যা সভাপতি তাঁর ছোট বোন জামাই সাইদুর রহমানের কাছ থাইক্যা মোটা অঙ্কের টেহা লইয়া অবৈধভাবে ওই বিলডা বিক্রি কইর্যা দিছে। আমরা এইডার বিচার চাই।

রংচী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সামছুন নূর বলেন, সমিতির সদস্যরারে ম্যানেজ কইরা আমি কোনোরহম সুবিধা নিয়ে এই বিলডা আমার ছোট বোন জামাইর কাছে বিক্রি করি নাই। বিলের খাজনা ও অন্যান্য খবচ বাবদ আমাদের সমিতির সদস্য আব্দুল রেজ্জাক ও সুরুজ আলী আমারে কুনু টেহা দেয় নাই। আমাদের ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আমার আপন ছোট বোনজামাই। সমিতির ফান্ড না থাকায় সমিতির পক্ষে ওই বিলডার খাজনা ও অন্যান্য খরচ সে দেয়।আর বছর শেষে আমরার সমিতির নামে ১৫/২০হাজার টাকা হেই দেয়।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ওই সমিতির বেশির ভাগ সদস্যরাই আমার আত্বীয়। আত্বীয় হিসেবে তাঁদেরকে যতটুকু পারি সমিতির কাজে তাদেরকে সাধ্যমতো সাহায্য করি। জলমহালটি আমি কিনে নিইনি। কোনো অনিয়মের সঙ্গে আমার কোনোরকম সম্পৃক্ততা নেই।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, ইমেইলের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

আপনার মতামত লিখুন :