ধরা পাখি আবার ফিরে গেল নিজের ঠিকানায়।

সোহান আহম্মেদঃ ধর্মপাশা(সুনামগঞ্জ)
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:56 PM, 18 November 2020

আজ সকালে বকপাখি গুলো ফাঁদ পেতে ধরে এক শিকারি। নিয়ে যাচ্ছিলেন বাজারে । তা দেখতে পেয়ে পাখিগুলোসহ শিকারিকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। সেখানে ভুল স্বীকার করে কান্নাকাটি করায় শিকারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর বক পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

আজ বুধবার এ ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলা ধর্মপাশা উপজেলায়।বকপাখিগুলো ধরেছিলেন ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের বাহুটিয়া গ্রামের ফজলুল হক নামের এক যুবক । আর কখনো পাখি না ধরার অঙ্গীকার করে ফজলুল হক বলেন, ভুল করছি জীবনে যত দিন বাঁইচ্চা থাকব আর পাখি শিকার করব না

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সাথে কথা বলে জানা গেছে , পাইকুরাটি ইউনিয়নের একটি বিলে বক শিকারের উদ্দেশ্যে ভোরে ফজলুল হকসহ (২৬) কয়েকজন ফাঁদ পাতেন। সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁরা ৩৫-৪০টি বক শিকার করেন। সকাল আটটার দিকে ফজলুল হক সেগুলো বিক্রি করতে ধর্মপাশা বাজারে যাওয়ার পথে এক যুবক বিষয়টি দেখতে পেয়ে পাখিসহ ফজলুলকে ধর্মপাশা ইউএনওর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সকাল নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও )মো. মুনতাসির হাসান কার্যালয়ে আসেন। তিনি পাখি শিকার করা রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ফজলুলকে জানান। তখন ফজলুল কান্নাকাটি করে ইউএনওর কাছে ক্ষমা চান। তিনি আর কোনো দিন পাখি শিকার করবেন না বলেও মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করেন। ইউএনও ফাঁদগুলো ধ্বংস করে পাখিগুলো একে একে ছেড়ে দেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফজলুলের হাতে এক প্যাকেট খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান সাংবাদিকদের বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে ওই পাখিশিকারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :