মনোনয়ন_বানিজ্য_ই_দুর্নীতির_অন্যতম_কারণ

একেএম আব্দুজজাহের আরেফী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:21 PM, 16 June 2020

রাজনীতি একটা মহান কর্ম রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়ে থাকে।এই রাজনীতি একসময় সমাজের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষগুলো করতেন। তাদের টাকা পয়সা আছে কি নাই তা কখনো দেখা হতোনা।
তারা শুধু মাত্র রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যানের জন্য, অসহায় মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য,সমাজ রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ই রাজনীতি করতেন।

রাজনীতি করতে গিয়ে যদি কখনো কোন ভুল করে ফেলতেন কিংবা তার দায়িত্বে কোন প্রকার অবহেলা হয়ে যেত । তাহলে তারা নিজেরাই এর দায়ভার কাঁধে নিয়ে স্ব ইচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতেন।
আবার কখনো যদি কোথাও কোন বিষয়ে জনগণ তার কাজে অসন্তুষ্ট হতেন বা তার পদত্যাগ দাবি করতেন তাহলেও তারা নিজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিতেন।যেমন ধরেন রেলমন্ত্রী যদি কোথাও সরকারের অবহেলার কারণে বা যান্ত্রিক কোন কারণে রেল দূর্ঘটনায় পড়তো, তখন এর দায়ভার মন্ত্রী তার নিজের গাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করতেন।

কিংবা কোন নাগরিক যদি চিকিৎসার অভাবে মারা যেতো বা চিকিৎসা খাতে কোন অনিয়ম হতো স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার আত্মসম্মানের কারণে পদত্যাগ করতেন।আর বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলন হলেও ঝাড়ু মিছিল করলে রাজপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও পদত্যাগ তো দূরের কথা বরং খিলখিলিয়ে তারা হেসে যান।
সাংবাদিক রা পদত্যাগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বলে প্রশ্ন ই আসে না।এই হলো তাদের আত্মমর্যাদাবোধ!!!

কিন্তু বর্তমানে রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদ দের হাতে নেই, বরং আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ এখন রাজনীতি থেকে অনেক দূরে সরে দাঁড়িয়েছেন।তারা এখন এই নোংরা রাজনীতি থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

বর্তমান রাজনীতিতে ঠাঁই হচ্ছে ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী সমাজের বখাটে মানুষ গুলোর ও।

আগে যে কোন সংগঠন নির্বাচন সময় মনোনয়ন দিতো দলের মধ্যে এবং নির্বাচনী এলাকায় যার ইমেজ ভালো
যার অতীত ভালো যে কখনো কোন দুর্নীতি করেনি চাঁদাবাজি করেনি টেন্ডারবাজি করেনি জনগনের রিলিফের চাউল গম টিন টিয়ার কাবিখার টাকা চুরি করেনি।এই সমস্ত ভালো চরিত্রবান মানুষ গুলো কে মনোনয়ন দেওয়া হতো। তখন ছিলো না মনোনয়ন বানিজ্য।

কিন্তু বর্তমানে আর এগুলো দেখা হয়না,দেখা হয় কার কতো টাকা আছে!কে কতো বেশি টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনতে পারবে। একজন প্রার্থী দলের মনোনয়ন নিতে হলে প্রথমে অর্থের বিনিময়ে ওয়ার্ড নেতাদের কে পক্ষে আনতে হয়,এরপর ইউনিয়ন নেতাদের কে, এরপর থানা নেতাদের এরপর জেলা নেতাদের এরপর একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের কে ম্যানেজ করতে হয়।এই ধাপ গুলো পার করতে কতো তেল খরচ করতে হয় তার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার দলীয় সমর্থন নিতে তাকে কি পরিমান কালো টাকা খরচ করতে হয় তা আপনার আমার কল্পনার বাহিরে।

তাই একজন সৎ ন্যায়পরায়ন দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিবিদ এই তেল ও খরচ করতে পারেনা দলীয় মনোনয়ন ও পায়না।যার কারণে ব্যবসায়ী চাঁদাবাজ ও কালো টাকার মালিক রা পেয়ে যান দলীয় মনোনয়ন,বাদ পড়ে যান ত্যাগী ও চরিত্রবান নেতারা।

আর নির্বাচন করতে বা মনোনয়ন কিনতে এই বিশাল পরিমাণ তেল খরচ হয়! এই তেল আবার নিজের ড্রামে ফুরানোর জন্যই তাকে বেঁচে নিতে হয় দুর্নীতি চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি কালোবাজারি ও অবৈধ পথে উপার্জন।
জনগনের জন্য বাজেটের টাকা চলে যায় তাদের পকেটে।এই মহামারীর মতো সময়েও বস্তা বস্তা চাউল চলে যায় তাদের গুদামে। একেকজন আঙ্গুল ফুলে বটবৃক্ষে রুপান্তরিত হয় অল্প কয়েকদিনেই।

এজন্য বলা চলে দেশে যেই দুর্নীতি আর কালো টাকার ছড়াছড়ি এর জন্য দায়ী প্রত্যেক দলের সিনিয়র নেতারা, কোটি কোটি টাকায় নমিনেশন বিক্রি করবেন!
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ করে দিবেন আবার দুর্নীতি দমন কমিশন ও গঠন করবেন??
এটা একপ্রকারে জনগণের সাথে প্রতারণা তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজ যে স্বাস্থ্য খাতের চরম অবনতি, জনগণ চিকিৎসার অভাবে মারা যায়,ডাক্তার রুগি দেখলে পালায় এগুলো সবই হলো একমাত্র দুর্নীতির কারণ।

বর্তমান যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে!এই বাজেট মুলত দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতির মহোৎসব এর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।এই বাজেটে পুঁজিপতি মুনাফাখোরদের জন্য সকল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই বাজেট গরীবের রক্তচোষনের বাজেট,এই বাজেটকে লুটপাটের বাজেট বলা চলে।

তাই বলা যায় যতদিন এই ব্যবসায়ী দুর্নীতিবাজ মুনাফাখোর চাঁদাবাজ অর্থ পাচারকারীদের হাত থেকে রাজনীতি কে উদ্ধার করে।প্রকৃত রাজনীতিবিদদের হাতে আবারও রাজনীতি ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত না দেশের উন্নয়ন হবে। না জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।না দুর্নীতি আর অন্যায় অবিচার বন্ধ হবে।

তাই আসুন মনোনয়ন বানিজ্য বন্ধ করে আমরা এই দেশ কে একটি দুর্নীতি চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি কালোবাজারিদের হাত মুক্ত করে একটি আদর্শিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরণ সংগ্রাম করে যাই।
মুহাম্মাদ শোরাফ উদ্দিন স্বপন

আপনার মতামত লিখুন :