বাড়বে সিগারেটের দাম ও মোবাইল কল রেট

বার্তাকক্ষঃ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:27 PM, 11 June 2020

বাংলাদেশের ৪৯তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন হচ্ছে আজ। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজেটকে সামনে রেখে বিশেষত কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ধরা হচ্ছে তামাকজাত পণ্য তথা সিগারেট। সঙ্গে মোবাইল কলরেট শুল্ক ও ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নতুন এ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে গতকাল সংসদে জাতীয় বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাজেটকে সামনে রেখে বেশ কিছু দিন ধরে তামাকজাত সকল পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে আসছিল। বিশেষত বিভিন্ন মহল থেকে মূল্যস্তর কমিয়ে সিগারেটের দাম দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, বাংলাদেশে মোট তামাক ব্যবহারকারীর অর্ধেকেরও বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (গুল, জর্দা, তামাকপাতা) ব্যবহার করলেও এসব তামাকপণ্যের দাম সবচেয়ে সস্তা ও রাজস্ব আয় খুবই কম। তাই ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে করারোপের ভিত্তিমূল্যও খুব কম। এক্ষেত্রে কর বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যও বাড়ানোর কথা উঠছিল।

অন্যদিকে বাজেটকে সামনে রেখে গেল কিছুদিন যাবত সিগারের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে ২টিতে (নিম্ন এবং প্রিমিয়াম) নামিয়ে আনার জন্যও প্রস্তাব করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ৩৭+ টাকা ও ৬৩+ টাকা এই দুটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে নিম্নস্তরে নিয়ে আসা; নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, উল্লিখিত তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন হবে সরকারের। এছাড়াও ৩ শতাংশ সারচার্জ থেকে বাড়তি রাজস্ব আয় হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মনে করছে, নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও টেলিকম খাত ঠিকই টিকে আছে। বরং বেড়েছে কল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। তাই এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চায়।

দেশে বর্তমানে মোবাইল কল রেটে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সেটি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ইন্টারনেটের ওপর বর্তমানে থাকা ৫ শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে করা হতে পারে ১০ শতাংশ।

এনবিআর বলছে, তবে গতবার ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট বাড়ানো না হলেও এবার সেটা বাড়ানো হবে। ১৫ শতাংশ না করা হলেও ৫ শতাংশের দ্বিগুণ তো হবেই।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফোন কল রেট, সিম কার্ড ট্যাক্স এবং এই সংক্রান্ত সেবায় দ্বিগুণ শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করেছিল সরকার। ফলে গতবছরই মোবাইলে কথা বলার খরচ বেড়েছিল।

গত এক বছর ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলা, বার্তা পাঠানোয় ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১ শতাংশ সারচার্জ, ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক মিলে মোট খরচ হয় ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ফলে বর্তমানে মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে সরকার তা থেকে কেটে নেয় ২২ টাকা। এবার নতুন অর্থবছরের বাজেটে সেই খরচটা আরও বাড়তে পারে।

আজ ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলে ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই তা কার্যকর হবে।

এদিকে সিগারেট ও মোবাইল ফোন কল রেট ছাড়াও আমদানিকৃত বিলাসদ্রব‌্য—বডি স্প্রে, প্রসাধনী, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন ফি, নুতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম, মোবাইল ফোন, এসি মোটর ও বাইসাইকেলের দাম বাড়তে পারে

আপনার মতামত লিখুন :