বক্তব্য পাল্টে ফেললো ডব্লিউএইচও, এবার যা বললো মাস্ক পরা নিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:43 PM, 06 June 2020

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তারের শুরু থেকেই ফেস মাস্ক পরা নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান নানামুখি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছিল। সংক্রমণ এড়াতে সুস্থ ব্যক্তির ফেস মাস্ক পরতে হবে- এ নিয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছিল খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এবার ফেস মাস্ক পরা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য পাল্টে ডব্লিউএইচও বলছে, নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগমস্থলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

সংস্থাটি নতুন এক গবেষণায় দেখতে পেয়েছে, সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোগীর মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে মাস্ক বড় বাধা হতে পারে।

শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর নতুন এই নির্দেশনার আগে থেকেই বহু দেশ জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছে।

এর আগে ডব্লিউএইচও প্রায় সবসময়ই বলে আসছিল, যারা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবে তাদেরকে অবশ্যই মেডিকেল মাস্ক পরতে হবে। এবার বোল পাল্টে সবাইকে সুতার তৈরি মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র রোগতত্ত্ববিদ মারিয়া ভ্যান কারকভ বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আমরা সব দেশের সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি, যেন সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।’

একইসঙ্গে সংস্থাটি এ-ও বলছে, করোনার ঝুঁকি কমাতে ফেস মাস্ক পরা একটি উপায়মাত্র। শুধু যে ফেস মাস্ক পরলেই করোনা সংক্রমণ এড়ানো যাবে, তা নয়।’

গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান প্রদেশের হুবেই শহরে করোনা ভাইরারের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এর পর মাস দেড়েকের মধ্যেই ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রাণঘাতি নভেল করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় সোয়া ১৯ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ব্রাজিলের অবস্থান।

বাংলাদেশেও গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ। এরপর গত আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে দেশে মোট ৬০ হাজার ৩৯১ জন আক্রান্ত ও ৮১১ জন মারা গেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :